Ekattor Kantho Logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
শিরোনাম
চার সমুদ্রবন্দরে সংকেত ৩, সারাদেশে বৃষ্টির সম্ভাবনা সৌদি প্রবাসীদের জন্য চলতি মাসেই বিমানের বিশেষ ফ্লাইট ভোলায় ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ভোলায় বাংলাদেশ মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন (বিএমএফ)'র বৃক্ষরোপন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত। পাপুল কুয়েতের নাগরিক হলে এমপি পদ বাতিল: প্রধানমন্ত্রী দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৪৮৯ জনের করোনা শনাক্ত ভোলার ৬কেজি মাদকদ্রব্য গাজা সহ এক বৃদ্ধ মহিলা গ্রেফতার কালিশুরী-ধূলিয়া ব্রীজের দুই পাশের সংযোগ সড়ক মরণ ফাঁদে পরিনত ভোলায় ২ বছরের শিশুকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার মা সাংবাদিক আজাদের বিরুদ্ধে দৈনিক সময়ের আলো পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে দৌলতখানে মানববন্ধন

কৃষককে মানায় মাঠে আর ছাত্রদের নিয়মিত পাঠে: শাহীন কামাল


একাত্তর কন্ঠ

আপডেট সময়: ২৬ মে ২০১৯ ৯:৫৬ পিএম:
কৃষককে মানায় মাঠে আর ছাত্রদের নিয়মিত পাঠে: শাহীন কামাল

শাহীন কামাল: যার কাজ সে না করলে কাজটি পরিপূর্ণ হয়না। হওয়া সম্ভবও না। কাজ শুধুমাত্র ইচ্ছার উপরই নির্ভর করেনা, পরিপূর্ণ কোন কাজ সম্পন্ন করতে প্রয়োজন অভিজ্ঞতার। ধীরে ধীরে কাজ করতে করতে পরিপক্কতা আসে মানুষের। তখন কাজ হয়ে ওঠে যথাযথ। অপারদর্শী হাতে যা হয় তা কাজের চেয়ে লোক দেখানোই বেশি। কোন ফল আসেনা এই কর্মে। বছর কয়েক আগে দেশের একজন তৎকালীন মন্ত্রীর গেঞ্জি গায়ে কাদামাটিতে মাখামাখি করে মাথায় মাটি বহনের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ হাস্যরসে পরিনত হয়েছিল। এদেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে এটা প্রত্যাশা করিনা যে, আমাদের সম্মানিত মন্ত্রী মহোদয় মাটির বোঝা বহন করবেন। বরং এটা আশা করি, এই মাটি বহনকারী পেশাজীবীদের তারা মানুষ মনে করবেন। ছোটবেলা থেকে সাবেক একজন রাষ্ট্রপতির মাটি বহনের দৃশ্য দেখে দেখে বারবারই প্রশ্ন জেগেছে, অন্য পেশায় নিয়োজিত মানুষকে কেন মাটির বোঝা বহন করতে হবে এভাবে!

কৃষিনির্ভর পরিবারে বড় হয়েছি। স্কুল মাষ্টার বাবার পারিবারিক আয়ের অনেকাংশ ছিল কৃষিকাজ থেকে। আব্বা তাঁর পৈতৃক কৃষিকাজের সর্ব খবর জানলেও ধান কাটতে পারতেন বলে শুনিনি। ছোটবেলা থেকেই হালচাষ, ধানকাটা, ধানমাড়াই, ধান সংরক্ষণ সকল কিছু অনেক কাছ থেকে দেখিছি। মাসিক বেতনে জমি চাষের জন্য রাখা কৃষি শ্রমিকরা পারিবারিক সদস্য হয়ে গিয়েছিল কিন্তু তারপরেও ধান কাটার বিদ্যা অর্জিত হয়নি আমার কোনকালেই।

ছোটবেলায় দেখেছি ধান কাটতে গিয়ে অপেক্ষাকৃত আনাড়ি কিংবা অনভিজ্ঞ কৃষকের পেছনে ধান কুড়ানো বাচ্চারা বেশি থাকতো কারণ ধান কাটতে গিয়ে তাদের হাত ফসকে কিছু ধানের ছড়া অজান্তেই থেকে যেত। সর্দার কিংবা সিনিয়র কেউ কেউ এনিয়ে বকাঝকা করতো। সেই দৃশ্য দেখে আজও পরিস্কার যে অন্যক্ষেত্রের মত ধান কাটায় অভিজ্ঞতার প্রয়োজন রয়েছে।

ধান কাটা থেকে ধান গোলায় পৌঁছানো একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়া। কাটা ধানের বোঝা মাথায় নিয়ে একস্থানে জড়ো করে মাড়াই করা যেনতেন কাজ নয়। আমাদের কৃষকদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় এ কর্মগুলো অত্যন্ত সুচারুভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। হঠাৎ করে চাইলেই যে কেউ এটা করতে পারবে বলে মনে হয় না।

কৃষিনির্ভর দেশের কৃষকদের সিংহভাগই কৃষি শ্রমিক। হিসেবের খাতায় আমরা দেশের জনসংখ্যার ৮০ ভাগকেই কৃষক বলি সত্যি মূলত তাদের বেশিরভাগ অন্যের জমিতে কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। এখন তাদের কাজ যদি ধরে নেই অন্যের দ্বারা সম্পন্ন হবে তবে তারা কী হঠাৎ করে কর্মহীন হয়ে যাবে না! ধানের মূল্য কমে যাওয়ার সংবাদে দেশজুড়ে আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে। দেশের মূল জীবিকা শক্তি কৃষকরা যদি স্বীয় পেশায় হতাশ হয়ে মুখ ফিরিয়ে নেন তবে এ বড় হতাশার সংবাদ। ধান ক্ষেতে আগুন দেয়ার সংবাদে গণমাধ্যমসহ দেশের সকল মানুষকে হকচকিয়ে দিয়েছে। নড়েচড়ে বসেছে পুরো দেশ। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার উত্তম পন্থা কার্যকর উপায় খুজে বের করা।

দেশের যেকোন অনিবার্য বাস্তবতায় শিক্ষার্থীরা মানুষের পাশে দাড়াবে, এ ইতিহাস আমাদের বেশ সমৃদ্ধ। প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানাবিধ অতীত প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের এই অংশগ্রহণ ইতিহাসের পাতায় চিরকাল আলো ছড়াবে। ইদানিংকালে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো ছাত্রদের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই যে ছাত্রদের ধান কাটা কৃষকের কোন উপকারে আসবে কী? নাকি লাভের চেয়ে তাদের লোকসানের পাল্লা ভারী করবে? ছাত্ররা কী কৃষকের মত দ্বায়িত্ব নিয়ে পরম মমতায় সবটুকু ধান কাটতে পারবে? আদৌ তাদের দ্বারা সম্ভব কিনা? ছাত্রদের বিরাট অংশ কৃষক পরিবারের। এখানে তাদের আবেগ কিংবা বাস্তবতা থাকছে সত্যি কিন্তু কার্য সমাপনের যে কোন অভিজ্ঞতা নেই, সেই সত্য এড়িয়ে যাবে কিভাবে! দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় কৃষকের কাজ ছাত্ররা এত সহজেই করে দিতে পারবে তা ভাবা কতটুকু যুক্তিযুক্ত! তাছাড়া বহুসংখ্যক কৃষি শ্রমিক যে বেকার হচ্ছে, সে দিকে কী ভাবতে হবে না!

অন্যকেউ ধান কেটে ঘরে পৌঁছিয়ে দেয়া সমাধান নয়। ধানের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণে কার্যকর ভূমিকাই হতে পারে সমস্যা সমাধানে উত্তম পন্থা। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ধান কেনার সাথে ব্যবসায়ীদের মনোযোগ আকর্ষণ করা যেতে পারে। ব্যবসায়ী যদি এ ধারনায় আসতে পারে যে, ধান সংরক্ষণে মুনাফা আসবে, তবে এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগের জন্য ব্যবসায়ী তৈরি হবে। মিল মালিকরা লাভের আশা দেখতে পেলে এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করবে। বাজারে পণ্যের বিক্রি না বাড়াতে পারলে মূল্য বৃদ্ধির কোন সম্ভাবনা নেই। বিদেশ থেকে চাল আমদানির ঘটনা কাকতালীয় হলেও এ সময় কাটা ঘায়ে নুনের ছিটার মত। চাল আমদানি নিরুৎসাহিত করে রপ্তানির চিন্তা করা যেতে পারে।

কৃষককে মানাবে ফসলে সমৃদ্ধ মাঠে আর ছাত্রদের নিয়মিত পাঠে। এর ব্যত্যয় হলে লোকদেখানো হতে পারে, এ নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় ঝড় উঠবে কিন্তু কাজের কাজ কিছু হবে না।

লেখকঃ শিক্ষক, সাংবাদিক।

একাত্তর কন্ঠ 


আপনার মন্তব্য লিখুন...

সত্য প্রকাশে নির্ভীককণ্ঠ
Top