Ekattor Kantho Logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
শিরোনাম
চার সমুদ্রবন্দরে সংকেত ৩, সারাদেশে বৃষ্টির সম্ভাবনা সৌদি প্রবাসীদের জন্য চলতি মাসেই বিমানের বিশেষ ফ্লাইট ভোলায় ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ভোলায় বাংলাদেশ মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন (বিএমএফ)'র বৃক্ষরোপন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত। পাপুল কুয়েতের নাগরিক হলে এমপি পদ বাতিল: প্রধানমন্ত্রী দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৪৮৯ জনের করোনা শনাক্ত ভোলার ৬কেজি মাদকদ্রব্য গাজা সহ এক বৃদ্ধ মহিলা গ্রেফতার কালিশুরী-ধূলিয়া ব্রীজের দুই পাশের সংযোগ সড়ক মরণ ফাঁদে পরিনত ভোলায় ২ বছরের শিশুকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার মা সাংবাদিক আজাদের বিরুদ্ধে দৈনিক সময়ের আলো পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে দৌলতখানে মানববন্ধন

একবিংশ শতাব্দীতেও মাতৃমৃত্যু অগ্রহণযোগ্য, প্রসঙ্গঃবন্ধুপত্নী ও পুত্রসন্তানের মৃত্যু


একাত্তর কন্ঠ

আপডেট সময়: ২৪ জুন ২০১৯ ৫:০৬ এএম:
একবিংশ শতাব্দীতেও মাতৃমৃত্যু অগ্রহণযোগ্য, প্রসঙ্গঃবন্ধুপত্নী ও পুত্রসন্তানের মৃত্যু

সালেহ্ রনক : মৃত্যুর সঙ্গে চিরতরে বিচ্ছেদের বেদনাময় দিকটি যে জড়িত সেটা পাশ থেকে প্রিয়জন চলে না যাওয়া পর্যন্ত মর্মে প্রবেশ করে না। পৃথিবীতে কোন মৃত্যুই সুখের নয়,নয় কাম্য। নিয়মের চুড়ান্ত ফলাফলে একদিন আমাকে, আপনাকে, সকলকেই মৃত্যুবরণ করতে হবে যে কোন মুহুর্তে। তারপরও কারো অকালে চলে যাওয়া মনকে বেদনায় ভরে দেয়, সমস্ত অস্তিত্ব ধরে বড় রকমের ঝাঁকুনি দেয়। দীর্ঘশ্বাসের সাথে অস্ফুট স্বরে মুখ থেকে বেরিয়ে আসে

আহারে জীবন!

আহ্ জীবন!

এই কি তবে সাধের জীবন!

আমার দৃষ্টিতে সকল অকাল মৃত্যুর মাঝে সবচেয়ে বেদনাদায়ক, সবচেয়ে বেশি হাহাকার তৈরি করে সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে কোন মায়ের মৃত্যু। যখন দেখি তখন আমার বুকের ভিতর প্রচন্ড বেগে কান্নার ঢেউ বয়ে যায়, আমি স্তব্দ হয়ে যাই। একজন মা তার সন্তানকে পৃথিবীর আলো বাতাসে নিয়ে আসতে গিয়ে, নতুন জীবন দিতে গিয়ে নিজেই চিরতরে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন, মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেন, এই ব্যথা কি সইবার মতো!

মানব জীবনে সবচেয়ে মধুরতম শব্দ মা । মা শব্দটি যেন ভালবাসার, স্নেহের, নির্ভরতার এবং সর্বময় মঙ্গলের প্রতীক!মায়েরাই সন্তানের জন্য জীবন উৎসর্গ করে মাতৃত্বের শ্রেষ্ঠ পরীক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন পৃথিবীতে মানব জন্মের পর থেকে। সন্তানের জন্য মা এবং মায়ের জন্য সন্তান, পৃথিবীতে সব থেকে শক্ত পরিপূরক। মাতৃত্বকালীন সময় থেকে সন্তান প্রসবের আগ পর্যন্ত দশ মাস দশ দিন পরমযত্ন ও অসহনীয় কষ্ট সয়ে নিজের শরীরের ভেতর ধীরে ধীরে বড় করে তোলেন আর একটি প্রাণ! অনাগত সন্তানকে নিয়ে নানা স্বপ্নে বিভোর থাকেন। অথচ যখন শুনি সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে কোন মায়ের মৃত্যু বরণের খবর তখন সত্যিকার অর্থেই হৃদয় ভেঙ্গে যায়।প্রসবকালীন মায়ের মৃত্যু নতুন কিছু নয় বরং গত ১৫ বছর আগেও সারা বিশ্বসহ এদেশেও প্রসবকালীন মাতৃমৃত্যুর হার ছিল ভয়াবহ। এসব জেনেও যুগের পর যুগ নারীরা গর্ভধারণ করে আসছেন, সন্তানকে দুনিয়ার আলো বাতাসে নিয়ে আসছেন। আবার এদের মাঝে অনেকেই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করছেন।

একবিংশ শতাব্দীতে পা রেখেও সন্তান প্রসবের সময় মায়ের মৃত্যু থেমে নেই। বিজ্ঞানের চারদিকে এমন জয়জয়কারের মাঝেও মাতৃমৃত্যুর হার শূন্যের কোটায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যুর হার ১৯৬। অর্থাৎ এক লাখ জীবিত শিশুর জন্ম দিতে গিয়ে ১৯৬ জন মায়ের মৃত্যু হচ্ছে। সবমিলিয়ে এ দেশে প্রতিদিন প্রায় ১৬ জন নারী, অর্থাৎ বছরে ৫ থেকে ৬ হাজার নারীর মাতৃমৃত্যু ঘটছে। এ দেশের নারীদের মাঝে সচেতনতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে যার কারণে মাতৃমৃত্যুর বর্তমান চিত্রটা পূর্বের তুলনায় কয়েকগুণ কম হলেও পরিসংখ্যান বুকে কাঁপন ধরিয়ে দেবার মতো।

গত ২০ বছর আগেও অধিকাংশ মাতৃমৃত্যুই ঘটছে এমন সব কারণে, যা একটু সচেতনতার মাধ্যমেই প্রতিরোধ করা যেত। বর্তমানে নারীরা বেশ সচেতন। এখন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে প্রসবের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেয়ার হার ২০০১ এর তুলনায় ৫ গুণেরও বেশি। তারপরও এদেশে বেশিরভাগ নারীই মারা যান প্রত্যন্ত, পিছিয়ে পড়া, আলোর মুখ না দেখা অঞ্চলগুলোতে, যেখানে এখনও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা গিয়ে পৌঁছায়নি। খোদ রাজধানীতেও যখন মাতৃমৃত্যুর মতো ঘটনা ঘটেই চলছে তখন আসলেই আমরা কতটুকু এগিয়েছি সে ব্যাপারে আবারও প্রশ্ন জাগে। অথচ নামিদামী হাসপাতাল আর ক্লিনিকের অভাব নেই। এর পাশাপাশি রয়েছে সরকারী হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ। সেখানে উন্নত দেশগুলোতে প্রতি এক লক্ষে মাতৃমৃত্যুর পরিমাণ মাত্র ১২ সেখানে আমাদের দেশে তার সংখ্যা ১৯৬ জন। একটি মৃত্যুও কাম্য নয় তবে বিশেষ শারীরিক জটিলতার কারণে যাদের প্রসবকালীন মৃত্যু ঘটে তার বাইরে শুধু সুচিকিৎসা আর সচেতনতার অভাবে মাতৃমৃত্যু গ্রহণযোগ্য নয়। সময় এসেছে মাতৃমৃত্যুর হার উন্নত দেশগুলোর সমপর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার।

হঠাৎ এমন একটি বিষয়ে লেখার কারণ প্রসবকালীন বন্ধু পত্নী ও তার নবজাতক সন্তান উভয়ের মৃত্যুর খবরে অন্তর্দাহ থেকে। স্কুল সহপাঠী ও বন্ধু মোশারেফ হোসেন সোহেল প্রতিষ্ঠিত রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী। লালমোহন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও আমাদের প্রিয় সংগঠন ঐকতান-৯২ এর আহ্বায়ক কমিটির সন্মানিত সদস্য । দুই কন্যা সন্তান ও স্ত্রী নিয়ে সাজানো গোছানো সুখের সংসার ছিল তার। গত ১৯ জুন খোদ রাজধানীতে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে পুত্র সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মা ও শিশু দুজনই মৃত্যু বরণ করেন। তারপর থেকে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে মনে। আধুনিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল সোহেল পত্নীও প্রসবকালীন সময়ে মারা গেছেন রাজধানীর এক প্রাইভেট হাসপাতালে। তাহলে দেশের পিছিয়ে থাকা নারী ও অঞ্চলের নারীদের ভাগ্যে কি জোটে! নানা জনে নানা কথা বলছে, বন্ধুপত্নী যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন সে হাসপাতালে প্রসূতি মায়েদের বিশেষ জরুরী অবস্থায় সাপোর্ট দেয়ার মতো উপযুক্ত ব্যবস্থা ছিলো কিনা! মাঝে মাঝে আমরা খবর পাই প্রসবকালীন সময়ে ডাক্তার ও সংশ্লিষ্টগণের অবহেলার কারণেও প্রসূতির মৃত্যু ঘটে। এখানেও এমনটা ঘটে নাই তো? তবে আমার এদেশের ডাক্তারগণের উপর অগাধ আস্থা। তবে উপরের সমালোচনাগুলোকেও উড়িয়ে দিচ্ছি না। আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি মেধা ও দক্ষতায় আমাদের চিকিৎসকগণ উন্নতদেশের ডাক্তারদের তুলনায় কোন অংশেই পিছিয়ে নেই। যদি কিছু অভাব থেকে থাকে তা হচ্ছে উপযুক্ত পরিবেশ ও উন্নত প্রযুক্তির। আশা করছি খুব দ্রুতই এদেশও সেই সক্ষমতা অর্জন করবে,ডাক্তারগণও হবেন আরও বেশি দায়িত্বশীল ও আন্তরিক।

বন্ধুপত্নীর অকালে চলে যাওয়া বন্ধু সোহেলের জন্য তো বটেই, রেখে যাওয়া দুই কন্যাসন্তানের জন্যও অপূরণীয় ক্ষতি।কিছু শূন্যতা আছে যা কোনদিন পূরণ হয় না। নিশ্চয়ই সৃষ্টিকর্তা অনাগত দিনগুলোকে সহজ ও সুন্দর করে তুলবেন বন্ধুপত্নীর রেখে যাওয়া দুই কন্যার জন্য। বন্ধু ও তার দুই কন্যা এই শোক বইবার ও জীবনকে নতুন করে সাজিয়ে নেয়ার শক্তি লাভ করুক। সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে অসময়ে চলে যাওয়া বন্ধুপত্নী ও দুনিয়ার আলো দেখার সৌভাগ্য না হওয়া বন্ধুপুত্রকে আল্লাহ্ সুবাহানুতালা জান্নাতবাসী করুন। জগতের সকল মায়েদের সন্তান প্রসব নিরাপদ হউক।।

শিক্ষক ও সমাজকর্মী

২৩ জুন ২০১৯

ঢাকা

একাত্তর কন্ঠ 


আপনার মন্তব্য লিখুন...

সত্য প্রকাশে নির্ভীককণ্ঠ
Top