Ekattor Kantho Logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
শিরোনাম
চার সমুদ্রবন্দরে সংকেত ৩, সারাদেশে বৃষ্টির সম্ভাবনা সৌদি প্রবাসীদের জন্য চলতি মাসেই বিমানের বিশেষ ফ্লাইট ভোলায় ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ভোলায় বাংলাদেশ মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন (বিএমএফ)'র বৃক্ষরোপন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত। পাপুল কুয়েতের নাগরিক হলে এমপি পদ বাতিল: প্রধানমন্ত্রী দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৪৮৯ জনের করোনা শনাক্ত ভোলার ৬কেজি মাদকদ্রব্য গাজা সহ এক বৃদ্ধ মহিলা গ্রেফতার কালিশুরী-ধূলিয়া ব্রীজের দুই পাশের সংযোগ সড়ক মরণ ফাঁদে পরিনত ভোলায় ২ বছরের শিশুকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার মা সাংবাদিক আজাদের বিরুদ্ধে দৈনিক সময়ের আলো পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে দৌলতখানে মানববন্ধন

অপ্রয়োজনীয় সিজার ঠেকাতে হাইকোর্টে ব্যারিস্টার সুমন


অনলাইন ডেস্ক

আপডেট সময়: ২৫ জুন ২০১৯ ১১:০৮ পিএম:
অপ্রয়োজনীয় সিজার ঠেকাতে হাইকোর্টে ব্যারিস্টার সুমন

প্রসূতি মায়ের অপ্রয়োজনীয় সিজার কার্যক্রম বন্ধে যাবতীয় নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। পরে তিনি জানান, আবেদনটি বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে।

বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে এই রিট দায়ের করা হচ্ছে এবং রিটে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিএমডিসিসহ সংশ্লিষ্টদেরকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটের বিষয়ে শুনানি করার জন্য হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ যাওয়া হবে বলে জানান ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন।

আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে গত দুই বছরে শিশু জন্মের ক্ষেত্রে সিজারিয়ানের হার বেড়েছে ৫১ শতাংশ। এতে বাবা-মায়েদের সন্তান জন্মদানে ব্যাপক পরিমাণে খরচের ভার বহন করতে হচ্ছে। তাই প্রয়োজন ছাড়া সিজারিয়ানের কয়েকটি স্বস্থ্য ঝুঁকি এবং অর্থ খরচ এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে এই রিট আবেদনে।’

সংস্থাটি বলছে, সিজারিয়ানে সন্তান জন্মদানে রয়েছে নানা রকম ঝুঁকি। মা ও শিশু উভয়কেই এমন অস্ত্রোপচার ঝুঁকিতে ফেলে।

সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশু জন্মে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের ফলে ইনফেকশন ও মাত্রাতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, অঙ্গহানি, জমাট রক্ত ইত্যাদির কারণে মায়েদের সুস্থতা ফিরে পেতে প্রাকৃতিক প্রসবের তুলনায় অনেক দীর্ঘ সময় লাগে। এ ছাড়া সিজারিয়ানের কারণে প্রাকৃতিক জন্মের লাভজনক দিকগুলোও নষ্ট হতে পারে। যেমন, শিশু মায়ের প্রসবের পথ দিয়ে যদি স্বাভাবিকভাবে বের হয় তাহলে তার শরীর কিছু ভালো ব্যাকটেরিয়া গ্রহণ করতে পারে। এসব ব্যাকটেরিয়া শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। অস্ত্রোপচারের ফলে এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সে যেতে পারে না। যার ফলে এই ভালো ব্যাকটেরিয়া সে পায় না। এ ছাড়া মায়ের বুকের দুধ পান করার জন্য মায়ের সঙ্গে শিশুর যে শারীরিক নৈকট্যে আসা দরকার সিজারিয়ান হলে সেটি প্রয়োজনের তুলনায় দেরিতে ঘটে। কারণ মায়ের সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য শিশুকে তখন কিছু সময় দূরে রাখা হয়।

একদম শুরুর দিকে মায়ের বুক দুধের বাড়তি উপকারিতা রয়েছে। তা থেকে সে বঞ্চিত হয়। ২০১৮ সালে যত সিজারিয়ান হয়েছে তার ৭৭ শতাংশই চিকিৎসাগতভাবে অপ্রয়োজনীয় ছিল। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ২০১৮ সালে বাংলাদেশি বাবা-মায়েরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানে খরচ করেছেন প্রায় চার কোটি টাকার বেশি। জনপ্রতি হিসেবে গড়ে তা ছিল ৫১ হাজার টাকার বেশি। সিজারিয়ানে সন্তান জন্মদানের হার বাংলাদেশের বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে মারাত্মক হারে বেশি। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে যত শিশু জন্ম নেয় তার ৮০ শতাংশই হয় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে।

সংস্থাটি আরও বলছে, ২০১৮ সালে যত সিজারিয়ান হয়েছে তার ৭৭ শতাংশই চিকিৎসাগতভাবে অপ্রয়োজনীয় ছিল। কিন্তু তারপরও এমন সিজারিয়ান হচ্ছে। ২০০৪ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রসবকালীন অস্ত্রোপচার ৪ থেকে ৩১ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

সেভ দ্য চিলড্রেন এমন অপ্রয়োজনীয় প্রসবকালীন অস্ত্রোপচার ঠেকাতে ডাক্তারদের ওপর নজরদারির পরামর্শ দিচ্ছে। এমন প্রবণতার জন্য সংস্থাটি আংশিকভাবে বাংলাদেশের চিকিৎসা সেবা খাতের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছে।
 


আপনার মন্তব্য লিখুন...

সত্য প্রকাশে নির্ভীককণ্ঠ
Top