Ekattor Kantho Logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
শিরোনাম
চার সমুদ্রবন্দরে সংকেত ৩, সারাদেশে বৃষ্টির সম্ভাবনা সৌদি প্রবাসীদের জন্য চলতি মাসেই বিমানের বিশেষ ফ্লাইট ভোলায় ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ভোলায় বাংলাদেশ মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন (বিএমএফ)'র বৃক্ষরোপন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত। পাপুল কুয়েতের নাগরিক হলে এমপি পদ বাতিল: প্রধানমন্ত্রী দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৪৮৯ জনের করোনা শনাক্ত ভোলার ৬কেজি মাদকদ্রব্য গাজা সহ এক বৃদ্ধ মহিলা গ্রেফতার কালিশুরী-ধূলিয়া ব্রীজের দুই পাশের সংযোগ সড়ক মরণ ফাঁদে পরিনত ভোলায় ২ বছরের শিশুকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার মা সাংবাদিক আজাদের বিরুদ্ধে দৈনিক সময়ের আলো পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে দৌলতখানে মানববন্ধন

চাই আইনের শাসন, ক্রসফায়ার নয়


একাত্তর কন্ঠ

আপডেট সময়: ৩ জুলাই ২০১৯ ১:৩৫ এএম:
চাই আইনের শাসন, ক্রসফায়ার নয়

সালেহ্ রনক : 

অন্যায়, অন্যায়ই তা যে পথেই করা হোক না কেন। বরং অবৈধ জিনিস যখন বৈধতা পায় তখন ভয়ংকর বিপদ অপেক্ষা করে সকলের চারপাশে। যার শিকার হতে পারে যে কেউ । বিচারহীনতা কখনো কোন যুক্তিতে জয়ী হতে পারে না, সমর্থনযোগ্য তো নয়ই। একজন জঘন্য অপরাধীরও বিচার পাওয়ার অধিকার আছে, আমাদের দেশের সংবিধান তা তাকে দিয়েছে। আইনের পাশ কাটিয়ে বেআইনি পথ কখনো কারো জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারে না।

রিফাত হত্যাকাণ্ডের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ক্ষোভে, ক্রোধে ফেটে পড়ে সাধারণ মানুষ। রিফাত হত্যাকারীদের ক্রসফায়ারের দাবিতে ফেইসবুকের পাতা গরম হয়ে ওঠে। নয়ন বন্ডের ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ার খবর পাওয়ামাত্র সেই তারাই আবার ক্রসফায়ারের বিরোধিতা করে ফেইসবুকে মুখর হয়ে উঠেছেন। আসলে এরা কারা? কি চান নিজেরা কি তা জানেন? নাকি যখন বৃষ্টি তখন ছাতি ধরে ফেইসবুকীয় লাইকে, কমেন্টসে ভেসে ফেইসবুকীয় সেলিব্রটি হতে চাচ্ছেন? অবশ্য এই চরিত্র নতুন কিছু নয়। গত কয়েকবছর ধরে এদেশের জনগণ তাদের কি চাওয়া উচিত তাই ই ভুলে গেছেন।

রিফাতের নৃশংস হত্যাকান্ডের পর আমিও আরো দশজনের মতো ফেইসবুকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছি, প্রতিবাদ করেছি, ন্যায়বিচার দাবি করেছি কিন্তু একটি বারের জন্য খুনীদের ক্রসফায়ার চাইনি। কারণ ক্রসফায়ার অন্যায় পন্থা, বিচারহীনতার আর একটি দিক মাত্র। একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে অবৈধ পন্থাকে বৈধতা দিতে পারি না। ক্রসফায়ারের মতো এমন একটি মারণাস্ত্র যদি বৈধতা পেয়ে যায় তাহলে এমন একদিন আসবে দেশে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাই বৈধ থাকবে আর দেশের সকল জনগণ নিজভূমে অবৈধ বলে বিবেচিত হবে।

জানি অনেকেই আমার এই লেখার সাথে দ্বিমত পোষণ করবেন। কিন্তু একবারের জন্য হলেও যুক্তি দিয়ে, বুদ্ধি দিয়ে ভাবুন, এই ক্রসফায়ার নামক অবৈধ অস্ত্রের শিকার আপনিও হতে পারেন। আর এই জন্য কোন জবাবদিহিতা করতে হবে না কাউকে। আপনার গায়ে সন্ত্রাসীর তকমা লাগিয়ে দিলেই কেল্লাফতে। আমার কথা হচ্ছে, দেশে আইন আদালত থাকার পরও ক্রসফায়ারকে বিচারের পন্থা হিসাবে বেছে নিতে হবে কেন? অনেকে বলবেন, ন্যায় বিচার কি দেশে আছে? তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, কেন নেই? কিসের অভাব? অভাব যদি থেকে থাকে তাহলে সেগুলো পূরণ করে আইন ও বিচার বিভাগকে শক্তিশালী করার চেষ্টা কি করা হয়েছে? ক্রসফায়ার কি ন্যায়বিচার? এওতো আর এক অন্যায়। অন্যায় দিয়ে কি ন্যায় প্রতিষ্ঠা সম্ভব? ন্যায়বিচার হচ্ছে সেই বিচার যেখানে আসামী ও ক্ষতিগ্রস্ত নিজেদের পক্ষে বলার সমান সুযোগ পাবে। ক্রসফায়ারে সেই সুযোগ কোথায়? বরং দেখে মনে হচ্ছে ক্রশফায়ার হচ্ছে মুখ বন্ধ করে দেয়ার, পর্দার আড়ালে থাকা মূল অপরাধীদের কিংবা অপরাধীদের গডফাদারদের ধরাছোয়ার বাইরে রাখার কৌশল।

এটা সত্য যে, এই জঘন্য অপরাধীদের পক্ষে আদালতে দাঁড়ানোর জন্য আইনজীবীদের অভাব হতো না এবং আদালতে দাঁড়িয়ে তারাও বলতেন, 'মাননীয় আদালত আমার মক্কেল সম্পূর্ণ নির্দোষ। ' দৃষ্টিকটূ ও আশাহত হওয়ার মতো বিষয় হলেও একে অপরাধীর সাংবিধানিক অধিকার মেনে নিয়েই বিচার ব্যবস্থার উপর নির্ভর করতে হবে, আস্থা রাখতে হবে। কারণ এর কোন ভালো বিকল্প নেই। যেখানে স্বাক্ষী আছে, শত শত মানুষ নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড দেখেছে এবং পুলিশের কাছে এই হত্যাকান্ডের লাইভ ভিডিও রয়েছে, সেখানে ন্যায় বিচার পেতে বাধা কোথায়? ন্যায় বিচার পাওয়ার সকল উপকরণ হাতে থাকার পরও কেন ক্রসফায়ারকে বেছে নেয়া হলো? কাদের স্বার্থে, কাদের বাঁচাতে, এই প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যায়? কারণ নয়ন বন্ড সাধারণ টোকাই থেকে বড় মাপের সন্ত্রাসী হয়ে উঠেছে। নয়ন বন্ডকে জীবিত ধরে বিচারের মুখোমুখি করলে বেরিয়ে আসতো কারা তার পৃষ্ঠপোষক,কাদের ছত্রছায়ায় নয়ন বন্ড এলাকার ত্রাসে পরিনত হয়েছিল? সমাজে বাস করা সেইসব মুখোশধারীদের চেহারাও বাইরে বেরিয়ে আসতো। নয়ন বন্ডের ক্রসফায়ারে সবকিছু অজানাই থেকে গেলো। আগামীতে নিজেদের প্রয়োজনে ঐসব মুখোশধারীরা আবার আর একজন নয়ন বন্ডের জন্ম দিবে।আগামীর সেই নয়ন বন্ড হয়তো আবার কেড়ে নেবে অন্যকোন রিফাতের জীবন। আর সেই সুযোগটা আমরা জনগণই করে দিচ্ছি ক্রসফায়ারের বৈধতা দিয়ে।

আমি এর আগেও বহুবার ক্রসফায়ারের বিরোধিতা করে লেখালেখি করেছি। সেই জায়গা থেকে একচুলও সরে আসিনি। দেশে আরো দশটা রিফাত হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটলেও না। আমি মনে করি, ক্রসফায়ার সমাধান নয়, বরং অন্যায়কে দমন করতে গিয়ে আরও একটি অন্যায় করা। ক্রসফায়ারকে হাতিয়ার বানিয়ে সুবিধাবাদীরা সুবিধা নিবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্যে। তখন আমি, আমরা কেউই নিরাপদ থাকবো না। দেশে তখন শান্তির বদলে নরক নেমে আসবে। তাই চাই আইনের যথাযথ প্রয়োগ,আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সততা, দক্ষতা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা। আর এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে পারলে পার পাবে না কেউই। পর্দার সামনে থাকা ও পর্দার পিছনে থাকা সকল অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য, ন্যায়বিচার নিশ্চিতের জন্য আইনের শাসনের বিকল্প নেই।

তাই ক্রসফায়ারের পক্ষে নয়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জোর দাবি জানাই, সোচ্চার হই। চলুন একসাথে বলি, ক্রসফায়ার আর এক অন্যায়, আমরা আইনের বিচার চাই,শাসন চাই । আমরা যেন ভুলে না যাই, ক্রসফায়ার সরকারিপোশাকে আর নৃশংসতা।

salehranak@gmail.com
ranak_08@yahoo.com
২ জুন ২০১৯
ঢাকা


আপনার মন্তব্য লিখুন...

সত্য প্রকাশে নির্ভীককণ্ঠ
Top