Ekattor Kantho Logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
শিরোনাম
চার সমুদ্রবন্দরে সংকেত ৩, সারাদেশে বৃষ্টির সম্ভাবনা সৌদি প্রবাসীদের জন্য চলতি মাসেই বিমানের বিশেষ ফ্লাইট ভোলায় ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ভোলায় বাংলাদেশ মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন (বিএমএফ)'র বৃক্ষরোপন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত। পাপুল কুয়েতের নাগরিক হলে এমপি পদ বাতিল: প্রধানমন্ত্রী দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৪৮৯ জনের করোনা শনাক্ত ভোলার ৬কেজি মাদকদ্রব্য গাজা সহ এক বৃদ্ধ মহিলা গ্রেফতার কালিশুরী-ধূলিয়া ব্রীজের দুই পাশের সংযোগ সড়ক মরণ ফাঁদে পরিনত ভোলায় ২ বছরের শিশুকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার মা সাংবাদিক আজাদের বিরুদ্ধে দৈনিক সময়ের আলো পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে দৌলতখানে মানববন্ধন

জেনে নিন রমজান মাসের শিক্ষা ও করণীয় বিষয়গুলো : তৃতীয় পর্ব


একাত্তর কন্ঠ

আপডেট সময়: ৪ মে ২০২০ ৩:৩৮ এএম:
জেনে নিন রমজান মাসের শিক্ষা ও করণীয় বিষয়গুলো : তৃতীয় পর্ব

এক. রোজাদারকে ইফতার করানো

#সহীহ সনদে তিরমিজি ও অাহমেদ বর্ণনা করেন যে, নবী (স) বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে ইফতার করাবে উক্ত রোজাদারের সওয়াবের অনুরূপ সওয়াব পাবে এতে তার নিজের রোজার সওয়াবের কোনো ঘাটতি হবে না।

দুই.আল্লাহর রাস্তায় বেশী বেশী দান ও সদকা করা

#আল্লাহর রাস্তায় দান সদকা ও ব্যয় করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবাদত। ইবনে আব্বাস (রা) হতে বর্ণনা করেন,রাসূলুল্লাহ (স)সকল মানুষের চেয়ে বেশি দানশীল ছিলেন।আর রমজান মাসে যখন তার সাথে জিবরাঈল (আ) সাক্ষাতে মিলিত হতেন তখন তিনি আরো বেশি দানশীল হয়ে উঠতেন ।জিব্রাইলের সাক্ষাতে তিনি বেগবান বায়ুর চেয়েও বেশি দানশীল হয়ে উঠতেন। (বুখারি হা:৩০৪৮)

তিন. বেশি বেশি দোয়া, জিকির এবং ইস্তেগফার করা

#রমজানের দিন গুলোতে পুরো সময়টাই ফজিলতময়।তাই সকলের উচিত এ বরকতময় সময়ের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করা- দোয়া, জিকির ও ইস্তেগফারের মাধ্যমে।কেননা রমজান মাস দোয়া কবুল হওয়ার খুবই উপযোগী সময়।

চার. এ মাস সবর ,ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার মাস।

#রাসূল (স)এরশাদ করেন , ইবনে আব্বাস (রা)বর্ণিত হাদিসে রমজান মাসকে সবরের মাস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে । রাসূল (স) এরশাদ করেছেন, সবরের মাস অর্থাৎ রমজান মাসে রোজা রাখা ও প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোজা রাখা অন্তরের অস্থিরতা দূর করে থাকে।

পাঁচ. রাত্রি বেলা তারাবি নামাজে দন্ডায়মান হওয়া

#রাসূল (স)এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি ঈমান ও আত্মসমালোচনার সাথে সওয়াব পাওয়ার আশায় রমজানের তারাবি আদায় করল- তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয় ।

ছয়. আত্মশুদ্ধি আত্মগঠন করা

#আত্মশুদ্ধি শব্দের অর্থ হলো নিজের আত্মাকে গুনাহ থেকে পরিশুদ্ধ করা
আত্মশুদ্ধি দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আত্মশুদ্ধির ছাড়া মানুষের ঈমান , ইসলাম কখনো বিশুদ্ধ বা পরিপূর্ণ হয় না।

#রাসূল (স)বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা তোমাদের পোষাক-পরিচ্ছদ ও রূপ সৌন্দর্যের দিকে তাকান না, আল্লাহ তোমাদের অন্তরের দিকে তাকান। (মুসলিম 4650)

#আল্লাহ তা'আলা বলেন,কেয়ামতের দিন সম্পদ এবং সন্তান কোন উপকারে আসবে না; কেবল যে ব্যক্তি আল্লাহর দরবারে পরিচ্ছন্ন অন্তর নিয়ে আসবে উহাই তার জন্য কাজে লাগবে (সূরা শূয়ারা ৮৮-৮৯)
রাসূল (স)বলেছেন, মানব দেহে একটি গোশতের টুকরা রয়েছে যখন উহা ঠিক হয়ে যায় তখন সমস্ত দেহ সুস্থ সঠিক হয়ে যায় । আর যখন উহা বিগড়িয়ে যায়, তখন সমস্ত দেহ বরবাদ হয়ে যায়। জেনে রাখ উহা হলো "কলব বা আত্মা"। উল্লিখিত কোরআন ও হাদিসের আলোকে বোঝা যায় যে, আত্মাকে পরিশুদ্ধ করা একান্ত কর্তব্য জরুরি।

#মানুষের দুটি দিক রয়েছে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ।
বাহ্যিক দিকের দুটি অংশ ও পোশাক ও দেহ।
অজু , গোসল ও তায়াম্মুম দ্বারা বাহ্যিক পবিত্রতা অর্জিত হয়।
#হালাল রিজিক দ্বারা রক্ত-মাংস পবিত্র হয় । নিষিদ্ধ ও বেহুদা চিন্তা-কথা-কাজ পরিহার , চোখ- জিব্বা লজ্জাস্থানের হিফাযত , বেশি কাঁদা , কম হাসা, কম কথা বলা , এর মাধ্যমে দেহ' পরিশুদ্ধ হবে।

পোশাকের পরিশুদ্ধি:

#পোশাক হতে হবে পবিত্র পরিচ্ছন্ন হালাল পথে অর্জিত স্বাধীন এবং রাসুল সালাম এর সুন্নত অনুযায়ী পোশাক। ।

#অপরদিকে অভ্যন্তরীণ দিকে রয়েছে তিনটি অংশ রূহ,কলব ও নফস।
রূহের পরিশুদ্ধি:

#কুপ্রবৃত্তি বর্জন করে রূহকে সর্বদা আল্লাহর দিকে রুজু রাখলে রূহ আল্লাহর রঙে রঞ্জিত হয়,
আল্লাহর নূরে আলোকিত হয় ফলে রূহ পরিশুদ্ধ হয়ে আল্লাহর মহব্বত লাভের যোগ্য হয়।

কলবের পরিশুদ্ধি:

#আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমেই কলব পরিশুদ্ধি হয়। আল্লাহকে সর্বদা হাযির-নাযির জানা, সার্বক্ষণিক জিকির, কোরআন তেলাওয়াত, মৃত্যুর স্মরণ, তওবা ও ইস্তেগফারের মাধ্যমে কলব পরিশুদ্ধ করতে হয়।

নফসের পরিশুদ্ধি:

#আত্মার জন্য ভালো গুনাবলী যেমন এখলাস ,তাওয়াক্কুল ,সবর, শোকর, ইত্যাদি অর্জন এবং খারাপ দিকসমূহ যেমন গর্ব-অহংকার, মিথ্যাচার, প্রদর্শনেচ্ছা ইত্যাদি বর্জনের মাধ্যমে অন্তকরণ পরিশুদ্ধির জন্য সাধনা করতে হবে।
#আবার ব্যক্তি জীবনের পাঁচটি ক্ষেত্রে তাজকিয়া বা পরিশুদ্ধি অর্জন করতে হবে ।

১.ইমান ও আকিদার পরিশুদ্ধি:

#ঈমান হতে হবে শিরক মুক্ত কুফর মুক্ত নিফাক মুক্ত জাহেলিয়াত মুক্তো এবং তাগুত মুক্ত।
সাহাবাগণের নমুনায় ঈমান ও আকীদা পোষণ করতে হবে। সর্বদা এর উপর অবিচল থাকতে হবে।

২. ইলমের পরিশুদ্ধি:

#ইলেম হতে হবে সব ধরনের কুসংস্কার ও বিভ্রান্তি মুক্ত কোরআন হাদিস এবং নিয়মিত ইসলামী সাহিত্য অধ্যয়ন এর মাধ্যমে জাহেরি ও বাতেনি ইলমের পরিশুদ্ধি করতে হবে

৩.আমলের পরিশুদ্ধি:

#আমল হতে হবে কেবলমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। আল্লাহর হুকুম ও রসুলের তরীকা অনুযায়ী। রিয়া , জাহিলিয়াত ও বিদআত মুক্ত । সাহাবাগণের নমুনায় আমলকে পরিশুদ্ধ করতে হবে।

৪. আখলাকের পরিশুদ্ধি:

#মোয়ামেলাত ও আখলাক হতে হবে এমন যা আল্লাহর দরবারে পছন্দনীয়। রাসুল (স) এর আদর্শে, সাহাবাগণের নমুনায়,মানবজাতির জন্য উত্তম শিক্ষণীয় আদর্শ হবে।

৫. অর্থনৈতিক পরিশুদ্ধি:

#আয় রোজগার এবং ব্যয় হতে হবে আল্লাহর দরবারে পছন্দনীয় হালাল পথে হারাম ও সন্দেহযুক্ত পন্থা সর্বদা বর্জন করতে হবে।

আত্মশুদ্ধি কেন............?

#মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে সূরা শামসের 9, 10 নং আয়াতে ঘোষণা করেন "যে নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে সে সফলকাম । আর যে নিজের আত্মাকে কলুষিত করেছে সে ব্যর্থ"।
#আল্লাহ বলেন,"যে ব্যক্তি প্রভুর সামনে দাঁড়ানো কে ভয় করে এবং নফসকে কুপ্রবণতা থেকে নিবৃত রেখেছে ; তার ঠিকানা হচ্ছে জান্নাত। পক্ষান্তরে যে তার নফসের খেয়াল-খুশি অনুযায়ী চলে সে যাবে জাহান্নামে। (সূরা নাজিয়া ৪০-৪৪)

আত্মশুদ্ধির পথ বা মাধ্যম
 

১. সহিহ দ্বীন ইলম চর্চা
২. হালাল উপার্জন
৩. যথার্থভাবে ফরজ সমূহ আদায়
৪. আল্লাহর সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি ও সর্বাবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ
৫. মৃত্যু ও আখিরাতের চিন্তা
৬. সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ
৭. পবিত্র কুরআন মাজীদ বুঝে পড়া
৮. সর্বাবস্থায় ও সকল কাজে সুন্নতের অনুসরণ
৯. সুন্দর চরিত্র ও সুন্দর আচরণ
১০. সাহাবা গনের জীবনী অধ্যায়ন
১১. বেশি বেশি দোয়া তওবা ও ইস্তেগফার
১২.সৎ গুণাবলী অর্জন যেমন এখলিস, সততা, ধৈর্য্য, কৃতজ্ঞতা, বিনয়-নম্রতা, অন্যের উপকার, দয়ার অনুভূতি, অন্যের দোষ ত্রুটি মার্জনা, সৎ কথা বলা, ওয়াদা পালন করা, আমানত আদায় ,অল্পে তুষ্ট, অপরের কল্যাণ কামনা করা, অন্যের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়া ইত্যাদি।
১৩.অসৎ গুণাবলী বর্জন করা যেমন লোভ-লালসা, আত্মপ্রীতি, গর্ব-অহংকার, মিথ্যাচার, প্রদর্শনেচ্ছা ,জাগতিক স্বার্থ চিন্তা , গীবত ,পরনিন্দা, পরশ্রীকাতরতা,অনর্থক কথা, অশ্লীল কথা, একগুঁয়েমি ,একদেশর্ষিতা, কুধারনা,কুচিন্তা এককেন্দ্রিক চিন্তা চাবি পরিহার করা।

আত্মশুদ্ধি কিভাবে হওয়া উচিত নিম্নে তার কিছু পদ্ধতি বর্ণনা করা হলো:

* সর্ব প্রথম কাজ হলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সহিত আদায় করা।
* বেশি বেশি পরিমাণে আল্লাহর যিকির করার দ্বারাও আত্মাকে পরিশুদ্ধ করা যায়।
* বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত করা এবং অর্থ বোঝার চেষ্টা করা।
* মৃত্যুর কথা বেশি বেশি স্মরণ করা রাসূল বলেছেন যে দৈনিক 20 বার মওতের কথা স্মরণ করবে তাকে শহীদি দরজা দেয়া হবে।
* গীবত করা থেকে বিরত থাকা।
* হিংসা অহংকার না করা।
* নজরকে হেফাজত করা বেগানা নারী দেখা খারাপ জিনিস দেখা অথবা নারীদেরকেও বেগনা পুরুষকে দেখা খারাপ জিনিস দেখা ইত্যাদি।
* সর্বোপরি কম কথা বলা।

বি: দ্র: মাহে রমজানের তাকওয়াই হতে পারে আত্মশুদ্ধি ও আত্নগঠনের পাথেয় । এ ব্যাপারে পরবর্তী পর্বে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।

আন্তরিক শুভেচ্ছান্তে
লেখক: মোঃ রেজাউল করিম তাওহীদি
খতিব, জেলা পরিষদ জামে মসজিদ ভোলা


আপনার মন্তব্য লিখুন...

সত্য প্রকাশে নির্ভীককণ্ঠ
Top